August 20, 2026, 5:04 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে দেশে ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ জনতার সহিংসতা কিছুটা কমলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারাদেশে বিভিন্ন অপরাধে ৯৯ হাজার ৯৯২টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীতে মামলা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪টি।
এর আগের ছয় মাস, অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছিল ৮৯ হাজার ১২টি। সে সময়ে ঢাকায় মামলা হয়েছিল ৮ হাজার ৬৬৫টি। অর্থাৎ আগের ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-জুলাই সময়ে সারাদেশে মামলা বেড়েছে ১০ হাজার ৯৮০টি। তবে ঢাকায় মামলা কমেছে ৬২১টি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে ১১ হাজার ৭৭৫টি, মার্চে ১৬ হাজার ১৫৭টি, এপ্রিলে ১৭ হাজার ১৮০টি, মে মাসে ১৮ হাজার ১৪৯টি, জুনে ১৮ হাজার ৮২০টি এবং জুলাইয়ে ১৭ হাজার ৯১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জুনেই ছিল ছয় মাসের সর্বোচ্চ মামলা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলা বৃদ্ধির পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার পর দৃশ্যমান বিচার না হওয়া, পুলিশের মনোবল দুর্বল হওয়া, অপরাধীদের দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসা এবং আইন প্রয়োগে সমন্বয়হীনতা ভূমিকা রাখছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধের বাস্তবতা, মামলা ও গ্রেফতারের পরিসংখ্যানের মধ্যে অনেক সময় সামঞ্জস্য থাকে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু নিয়মিত অভিযান যথেষ্ট নয়; পুলিশের মনোবল বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদার এবং নতুন কৌশল গ্রহণ প্রয়োজন।
অন্যদিকে ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে ১ হাজার ৩৮৭ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই একাধিক মামলার আসামি। এ তথ্য রাজধানীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট করছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, গত সময়ের তুলনায় ‘মব কালচার’ আপেক্ষিকভাবে কমেছে এবং পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনীতিকীকরণ থেকে বের করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে এবং বাহিনীর ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং, জনসচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অপরাধ ঘটার পর জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তবে জনবল, যানবাহন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির জন্য শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আইন মানার প্রবণতা—সবগুলো ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।